পুলিশি ঝামেলা এড়াতে মাকে অস্বীকার করলেন যুগ্ম সচিব ছেলে!

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসা থেকে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশি ঝামেলা এড়াতে প্রথমে নিজের মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন সরকারের যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান। পরে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন।

বুধবার মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শুরুতে আনিসুর রহমান মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন যে নুরজাহান বেগম তারই মা এবং তিনি মারা গেছেন।

এ ঘটনায় আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সচিবালয়ে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল বারী। বুধবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঘটনার সব দিক যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সেই আইনের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন পাওয়ার পর পুলিশ নুরজাহান বেগমের পচাগলা ও পোকায় খাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের দাবি, নুরজাহান বেগম দীর্ঘদিন একাকী জীবনযাপন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, একই বাসায় পাশাপাশি কক্ষে বসবাস করলেও তার মেয়ে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাননি।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে দীর্ঘদিন আলাদা বসবাস করতেন এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তাদের একজন যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান এবং অন্যজন দেশের একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের অধ্যাপক। এছাড়া তার মেয়ে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top