রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ধর্ষণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। শুক্রবার সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিক্ষুব্ধ মানুষজন। বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।
সন্তান হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন রামিসার বাবা-মা। দুপুরের দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে সিরাজদিখান যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার সময় বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষের কান্না ও সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজদিখানের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহার করা জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে বারবার ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, কিন্তু সেটি আর পরা হয়নি রামিসার।
রামিসাদের বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেখানে জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’ এবং ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।
এ সময় পুরো এলাকায় ছিল থমথমে পরিস্থিতি। স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, এখন নিজেদের সন্তানদের নিয়েই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। একটি শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব হতে পারে না।
গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
