স্ত্রী ও প্রেমিকের হাতে সাবেক সেনা সদস্যের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ এএম
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কয়েকদিন পরই প্রকাশ পেল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না; বরং ছিল পূর্বপরিকল্পিত ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড।
ভারতের কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলায় সাবেক সেনা সদস্য সন্দীপ মাঞ্জারগিকে তার স্ত্রী ও স্ত্রীর প্রেমিক মিলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিষপ্রয়োগে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৫ জুন) পুলিশ এই তথ্য প্রকাশ করে।
তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনাটিকে ‘হৃদরোগে মৃত্যু’ হিসেবে দেখিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার বীমা দাবি করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। এ কাজে হাসপাতালের চিকিৎসা ও ল্যাব কর্মীদের একটি অংশকে যুক্ত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ মার্চ এক বাইক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর সন্দীপকে প্রথমে হুক্কেরি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে জেজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১৫ মার্চ তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগ উল্লেখ করা হয়।
তবে ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে বিষের উপস্থিতি না পাওয়ায় ঘটনাটি শুরুতে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু নিহতের শারীরিক অবস্থা ও পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে মোড় ঘোরে সন্দীপের স্ত্রী সুমার প্রেমিক পুন্ডলিক দোম্বারের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের সূত্র ধরে। ওই পোস্টের পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য দেন বলে জানা যায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের পাশাপাশি পুন্ডলিক ও সন্দীপের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। এই সময়েই সন্দীপের স্ত্রী সুমার সঙ্গে পুন্ডলিকের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে প্রায় ২ কোটি টাকার জীবন বীমার অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় তারা হত্যার ছক আঁকে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্যালাইনের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ এবং ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়। পরে মৃত্যুকে স্বাভাবিক দেখাতে মেডিকেল ও ফরেনসিক নথি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্মী, ল্যাব টেকনিশিয়ান এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা, জালিয়াতি এবং প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে সিরিঞ্জ, বিষের পাত্র, মোবাইল ফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্রের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
