ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক বহিষ্কার
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ এএম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একটি মাদ্রাসায় ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মো. শাহীন উদ্দীন (৩১) নামের এক শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্ত শাহীন উদ্দীন উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের পশ্চিম হাসনাদ এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় খিল্লাপাড়া হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও হেফজখানা-এর শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রোববার (১৪ জুন) পাঠদান চলাকালে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ ওঠে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের পরিবারকে জানালে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের পর সোমবার সকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করে পরিচালনা পর্ষদ। পরে অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
একজন প্রবাসী অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা পরিবেশ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে তা নাকচ করে দেন স্থানীয় জামায়াত নেতা হাসান শামসুদ্দিন।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
