মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান-টিয়ারগ্যাস

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল এবং তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সোমবার সকালে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

সকালে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তারা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ এগিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ তাদের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে।

আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলম গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার নিয়োগের ফলে ব্যাংকে আবারও অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা এ আন্দোলনে নেমেছেন।

ঘটনার পর ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কয়েকশ আন্দোলনকারী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধ করায় মতিঝিলের ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তাদের বারবার সরে যেতে বলা হলেও তারা পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, এ ঘটনায় মতিঝিল এলাকার সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এর আগে গত ২৪ মে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক উপ-গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে এই নিয়োগের পর থেকেই গ্রাহকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের আশঙ্কা, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিতর্কিত ব্যক্তিকে শীর্ষ পদে বসানো হলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি নতুন করে আস্থার সংকটে পড়তে পারে। এ কারণে তারা নিয়োগ বাতিল ও পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top