রামিসা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য: স্বামীকে পালাতে সময় দিতেই দরজা খোলেননি স্ত্রী!
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে ভয়াবহ ও নাটকীয় তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। ডিএমপির দাবি, মূল ঘাতক স্বামী জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা খোলেননি তার স্ত্রী স্বপ্না।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, রামিসার মা দরজায় নক করার সময় ফ্ল্যাটের ভেতরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। এসময় স্ত্রী স্বপ্না ইচ্ছাকৃতভাবে দরজা বন্ধ রাখেন, যাতে তার স্বামী জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে পারে। জাকির পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই স্বপ্না দরজা খোলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত জাকির ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত জাকির পেশায় রিকশা মেকানিক এবং তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাও রয়েছে। তাকে “বিকৃত যৌনরুচি সম্পন্ন” বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, নিহত রামিসার পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটি প্রতিবেশীর বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করা হলেও জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, নারায়ণগঞ্জের একটি বিকাশের দোকানে টাকা তুলতে গেছে সে। সেখানেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে সকালে পল্লবীর ওই বাসার খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ
বিষয়:
