মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভয়াবহ দুর্নীতি, ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
ঢাকার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে ঘিরে ভয়াবহ দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির যোগসাজশে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর।
তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে অবৈধভাবে সাড়ে ছয় শতাধিক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেরামত খাতে ৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ের সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। একাডেমিক উন্নয়ন খাতে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিজ্ঞাপন খাতে ৪ কোটি এবং মুদ্রণ ব্যয়ে সাড়ে ১১ কোটি টাকার অসঙ্গতির তথ্যও উঠে এসেছে।
রাজধানীর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছয়টি শাখায় বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তবে শিক্ষার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চলেছে নানা অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের ঘটনা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কেনাকাটা, ভবন নির্মাণ, বেতন-ভাতা, উন্নয়ন ব্যয়, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, ঋণ গ্রহণ ও কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির আয় নিয়েও উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতি বছরের শুরুতে ভর্তি, সেশন চার্জ ও জানুয়ারির টিউশন ফির মাধ্যমে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আয় হয়। এছাড়া প্রতি মাসে টিউশন ফি থেকে আসে প্রায় ৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে বছরে প্রায় ১২০ কোটি টাকার আয় করে প্রতিষ্ঠানটি।
তদন্তে আরও জানা গেছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২টি শিফটের মধ্যে মাত্র ৪টির অনুমোদন রয়েছে। বাকি ৮টি শিফট অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর পরিচালনা করা হয়েছে। এসব শিফটে শিক্ষার্থী ভর্তি ও টিউশন ফি আদায়ও চলেছে নিয়মিত।
বিধিমালা লঙ্ঘন করে এসব শাখায় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের একাডেমিক উন্নয়ন ভাতা ও নগর ভাতা হিসেবে প্রায় ৮৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ফেরত এনে প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা দেওয়ার সুপারিশ করতে যাচ্ছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির নামে ২৩০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নেওয়া হলেও সেই অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি দাবি করেন, এসব অনিয়ম বর্তমান সময়ে নয়, আগের সরকারের আমলে হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির ঘটনাগুলো অতীত সময়ে ঘটেছে এবং তিনি মাত্র আট মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
এদিকে, ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়টি শাখাকে ছয়টি পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সুপারিশ আসতে পারে বলেও জানা গেছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
