নিজের দুর্নীতি ঢাকতে ছাত্রদলকে ব্যবহার করে পুনর্বহালের চেষ্টা পিডি গফুরের

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০১:১২ এএম

ছবি: সংগৃহীত
 

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতে ছাত্রদলকে ব্যবহার করে চাকরিতে পুনর্বহালের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাবিপ্রবি স্থাপন’ প্রকল্পে প্রায় ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এর আওতায় নির্মিত হচ্ছে একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক আবাসিক হল। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে আবদুল গফুর অতিরিক্ত দামে ফার্নিচার ক্রয়, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন গ্রহণসহ নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৮০ হাজার টাকার টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। শুধু ফার্নিচার খাত থেকেই প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া টিএ/ডিএ বাবদ একাধিকবার বিল উত্তোলনের মাধ্যমে আরও ৭ লাখ ১১ হাজার টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, চারটি ভবনের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক শতাংশ হারে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা কমিশন নিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে কয়েকজন ঠিকাদার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে সরকারি অর্থে নিজের বাসার জন্য আসবাবপত্র কেনার অভিযোগও উঠেছে আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের অর্থে আলমারি, ফাইল কেবিনেট, চেয়ার-টেবিল ও খাটসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে অগ্রিম টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মার্শাল চাকমা, নিশান চাকমা, আবদুল হক ও মঞ্জুরুল ইসলামের নামে কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য মিলেছে। এছাড়া নিজের নামেও প্রায় ১৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অগ্রিম গ্রহণ করেন আবদুল গফুর।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভিযোগ, বহিষ্কারের পরও আবদুল গফুর রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে ছাত্রদলকে ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এর আগে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভও করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইসিটি অপরাধ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্নের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে বরখাস্ত আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করলেও আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

রাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান বলেন, “প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি সংশোধন হননি। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবদুল গফুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



বিষয়:



Top