ট্যাগিংয়ের রাজনীতি অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা নষ্ট করবে: তাসনিম জারা
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ মে ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তাসনিম জারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি-র পক্ষে পোস্ট দেওয়ার পর তাকে নিয়ে নানা ধরনের ট্যাগিং ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা বলেন, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন-এর সময়ও তাকে একইভাবে ‘জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার প্রোডাক্ট’ বলে আক্রমণ করা হয়েছিল। সে সময় তিনি “একটা একটা শিবির ধর, ধরে ধরে জবাই কর” স্লোগানের বিরোধিতা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তাকে ‘ক্রসফায়ারে দেওয়ার’ হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। আর এখন নতুন করে তাকে “শাহবাগী”, “বাম”, “ইসলামবিদ্বেষী” কিংবা “বিদেশি এজেন্ট” বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
তাসনিম জারা জানান, ইমির একটি পোস্ট শেয়ার করার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। ওই পোস্টে ইমি অভিযোগ করেন, কারাগারে তাকে ইঙ্গিতপূর্ণ ও মানসিকভাবে হেনস্তামূলক কথা শুনতে হয়েছে। জারা দাবি করেন, আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে ইমির কারাগারে থাকার কথা ছিল না এবং একজন নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার দাবি করার অধিকার সবার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পর একটি “পোস্ট-আইডিওলজিক্যাল” রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ভিন্ন মত, পথ ও আদর্শের মানুষ একসঙ্গে কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে এখনো “ট্যাগিংয়ের রাজনীতি” চালু রয়েছে, যেখানে দ্বিমত পোষণ করলেই কাউকে নাস্তিক, বিদেশি এজেন্ট বা দেশবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তাসনিম জারা বলেন,
“সভ্য সমাজে কাউকে জবাই করার ডাক দেওয়া যায় না, কাউকে বিনা বিচারে আটকে রাখা যায় না, এবং দ্বিমতকে দেশদ্রোহ বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। এই বিশ্বাস থেকেই আমি কখনো সরে আসিনি, এখনও সরব না।”
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
