কওমি সিলেবাস পরিমার্জনের ঘোষণায় জামায়াতের কড়া সমালোচনা ইসলামী ঐক্যজোটের
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
ক্ষমতায় গেলে কওমি শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির এমন ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখওয়াত হোসাইন রাজি। তিনি একে কওমি মাদ্রাসার স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মুফতি সাখওয়াত হোসাইন রাজি বলেন, “কওমি মাদ্রাসার সিলেবাস পরিমার্জনের ঘোষণা কওমি মাদ্রাসার স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। অতীতেও কোনো সরকারকে এই পথে অগ্রসর হতে দেওয়া হয়নি, ভবিষ্যতেও কাউকে দেওয়া হবে না, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য একটি স্বতন্ত্র বোর্ড বিদ্যমান, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম দায়িত্বশীলভাবে যুক্ত আছেন। সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ তারাই করে আসছেন। “এখানে সরকারের নাক গলানোর কোনো সুযোগ নেই, অধিকারও নেই,”—উল্লেখ করেন তিনি।
মুফতি সাখওয়াত আরও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য অজ্ঞতাপ্রসূত ও হিংসাত্মক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ, যা কওমি মাদ্রাসার স্বাতন্ত্র্য ধ্বংসের সুস্পষ্ট অপচেষ্টা। তিনি দাবি করেন, কওমি মাদ্রাসা তার আট মূলনীতির আলোকে পরিচালিত হওয়ার কারণেই দ্বীনি শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ ও ধারাবাহিক ধারা আজও অক্ষুণ্ন রয়েছে। অন্যথায় আলিয়া মাদ্রাসার মতো এখানেও দ্বীনি শিক্ষার পরিসর সংকুচিত হয়ে যেত।
আলিয়া মাদ্রাসার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব বলেন, “বহু আলিয়া মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তি জামায়াতের রোকন এবং ছাত্র-শিক্ষকরাও রাজনৈতিকভাবে যুক্ত। তারা সরকারি অনুমোদন ও বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলন করলেও দ্বীনি শিক্ষার মান রক্ষায় কখনো জোরালো অবস্থান নেয়নি।”
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লেখেন, “এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে কওমি মাদ্রাসার দিকে আঙুল তোলা কেবল অন্যায়ই নয়; বরং দ্বীনি শিক্ষার শেষ অবশিষ্ট স্বাধীন দুর্গকে দুর্বল করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”
উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ইশতেহারে বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি করা হবে এবং কওমি শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জন করা হবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
