ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর
মামলা হলেও গ্রেপ্তার নন দুই পুলিশ সদস্য, প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনো গ্রেপ্তার হননি অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠা খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানও রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকে শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন নাঈম হাসান। নগরের লালখান বাজার এলাকায় তার গাড়ি থামিয়ে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে।
নাঈমের অভিযোগ, জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে হয়রানির শিকার হতে হয়। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য এখনো গ্রেপ্তার হননি।
এদিকে, ঘটনার মূল নির্দেশদাতা হিসেবে ওসি আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অভিযানের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না এবং পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নাঈমকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জানিয়েছে, ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে সাধারণ নাগরিকের মতোই আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। শুধু বিভাগীয় তদন্ত বা দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার ফৌজদারি অভিযোগের বিকল্প হতে পারে না।
বিষয়:
