রামিসা হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির জেল আপিল গ্রহণ করলেন হাইকোর্ট
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের জেল আপিল গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানিতে জেল আপিলে বক্তব্য উপস্থাপন করেন আসামি সোহেল রানা। তিনি দাবি করেন, পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্তি ও আর্থিক সংকটের কারণে ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে গেছে এবং ঘটনার সময় তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন না।
অন্যদিকে আসামি স্বপ্না খাতুন তার জেল আপিলে বলেন, তিনি রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন এবং তাকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এছাড়া বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে শিশু আছিয়া ও শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, “এ ধরনের মামলাগুলো মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপক্ষ মামলাগুলো বিরতিহীনভাবে শুনানি করতে আগ্রহী।
এর আগে গত ৭ জুন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (২) ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন। একই মামলায় অপর আসামি স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের পর দু’জনকেই কারাগারের কনডেম সেলে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হয়। পরে একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করে।
এই আপিল গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে গেল।
বিষয়:
