নাসির-তামিমা মামলার রায় আজ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

সংগৃহীত

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে করা বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ ঘোষণা করবেন আদালত। আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলার রায় নিয়ে দুই পক্ষই আশাবাদী অবস্থান নিয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেছেন, মামলায় আনা অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আসামিদের শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। আদালতের ওপর আস্থা রেখেই মামলা করা হয়েছিল। ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলার যুক্তিতর্কে আসামিদের নির্দোষতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তার প্রত্যাশা, আদালত নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানাকে খালাস দেবেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাদীপক্ষ গণমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়তে পারে।

মামলার বাদী রাকিব হোসেনও রায় ঘোষণার আগে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি বার্তা যাক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।’

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রাকিব হোসেন।

তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা এবং তামিমার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের মার্চে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় তামিমা সুলতানা দাবি করেন, তিনি আইনগতভাবে আগের স্বামীকে তালাক দিয়েই নাসির হোসেনকে বিয়ে করেছেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারায় এবং তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে ৪৯৪, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব ধারায় কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সুযোগ রয়েছে।

তবে আসামিপক্ষের দাবি, মামলার অভিযোগ সত্য নয় এবং আদালত তাদের খালাস দেবেন।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top