প্রতারণার মামলায় মূল আসামি পাভেল আটক
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:২৮ এএম
পল্টন থানায় দায়ের হওয়া আলোচিত সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার প্রধান আসামি মো. কামরুল আহসান পাভেলকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রবিবার (১৪ জুন) রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-৩ ও র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে শিমরাইল-চট্টগ্রাম রোড এলাকা থেকে পাভেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভারিপাশা গ্রামের বাসিন্দা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ‘নিখোঁজ’ বা ‘অপহৃত’ দাবি করে একাধিক মামলা দায়েরের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করত। পরে মামলা নিষ্পত্তি ও হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করা হতো।
তদন্ত সূত্র জানায়, ২০২২ সালে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান পাভেল। কিছুদিন পর তার স্ত্রী পলি আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী মানবপাচারের শিকার হয়েছেন এবং তাকে উদ্ধারে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে।
তবে তদন্তের অগ্রগতিতে দেখা যায়, অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। বরং মামলাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। পরে অর্থ লেনদেনের পর আদালতে দেওয়া এক আবেদনে পলি আক্তার জানান, তার স্বামী সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে তিনি অভিযোগ করেছিলেন।
ঘটনার তিন বছর পর একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে আরেকটি মামলা সামনে আসে। অভিযোগের ধরন, ঘটনার বর্ণনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দুটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পান।
গোয়েন্দা তদন্তে পাওয়া ফোনালাপ, নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, পুরো ঘটনাই ছিল পরিকল্পিত। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে কর্মী পাঠানো প্রতিষ্ঠানকে আইনি ঝুঁকিতে ফেলে আর্থিক সুবিধা আদায় করা।
এই অভিযোগের সূত্র ধরেই দায়ের হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় পাভেলকে প্রধান আসামি করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে র্যাব।
মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
