‘ফাঁসির আদেশ দিলেই হবে না, কার্যকরও করতে হবে’
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
‘দোষীদের শুধু ফাঁসির আদেশ দিলেই হবে না, সেই ফাঁসি যেন কার্যকর হয় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। তবেই আমার পরিবারসহ দেশের অন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।’
মিরপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় শুনতে এসে এ মন্তব্য করেন জুলাই আন্দোলনে নিহত মিরাজুল ইসলাম মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকার এমন আইন করুক যেখানে কোনো দুর্বলতা বা ফাঁকফোকর থাকবে না। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে পড়ে গেলে তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার নাও পেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়িতে সংঘটিত অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।
আব্দুস সালাম বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু এখনো অনেক মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশ।
তিনি দাবি করেন, তার ছেলে হত্যার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রমাণ তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেন মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হচ্ছে না, তা তার বোধগম্য নয়।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ভয় হয়, শেষ পর্যন্ত এই মামলাটাও হয়তো বাতিল হয়ে যাবে, কিংবা আমরা বিচার পাব না।’
মিরাজুল ইসলাম মিরাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী থানার সামনে আন্দোলনের সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন তার ছেলে। এ সময় থানার ভেতর থেকে ছোড়া গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা, ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনা এবং সংসারের ব্যয়ভার বহন করতেন তিনি।
এসএসসি পাসের পর জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি মোবাইল রিচার্জ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকানে কাজ করতেন মিরাজ। পরিবারের চিকিৎসা ও জীবিকার খরচ মেটাতে ঋণও করতে হয়েছিল তাকে।
গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হন মিরাজ। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।
ছেলের মৃত্যুর পর একাধিকবার বিচার দাবি করেছেন আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেটি আর নেই। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। আমি শুধু আমার সন্তানের বিচার চাই না, এমন বিচার চাই যা অন্য পরিবারগুলোকেও ন্যায়বিচারের আশা দেবে।’
তার ভাষায়, ‘যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার শুধু ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নেও দেখতে চাই।’
বিষয়:
