রায়ের আগে কাঠগড়ায় দোয়া পড়ছিলেন সোহেল, কাঁদছিলেন স্বপ্না

আইন আদালত ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় সোহেল রানাকে। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া পড়তে দেখা যায় সোহেল রানাকে। তার পাশে দাঁড়িয়ে স্বপ্না খাতুনকে কাঁদতে দেখা যায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য রোববার দিন ধার্য করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একটি বালতি থেকে তার মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। একই দিন সোহেল রানা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।

তদন্ত শেষে ২৪ মে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১ জুন অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

বিচার শুরুর মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম হিসেবে আলোচনায় এসেছে।



বিষয়:



Top