রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় আজ, আদালতে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ ঘোষণা করবেন আদালত। রায়কে কেন্দ্র করে সকালেই প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করা এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষ।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার সম্পন্নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার দিনই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়।
পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং স্বপ্না আক্তারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালত মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠান।
গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।
৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।
পরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য উপাত্তের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, মামলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। তাই অভিযোগ পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি খালাস প্রার্থনা করেন। তবে বিকল্প হিসেবে সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের জন্য কম সাজা চাওয়া হয়।
মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কসহ পুরো বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ায় মামলাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রায়ের আগের দিন এক আলোচনায় রামিসার বাবা বলেন, তিনি শুধু নিজের সন্তানের হত্যার বিচার চান না, এমন একটি সমাজ দেখতে চান যেখানে কোনো শিশুকে আর এমন নির্মম ঘটনার শিকার হতে না হয়।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
