রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য: বিছিন্ন মরদেহ ও কাটা মাথা উদ্ধারের বর্ণনায় ভারী আদালত

আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য: বিছিন্ন মরদেহ ও কাটা মাথা উদ্ধারের বর্ণনায় ভারী আদালত । ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে একের পর এক সাক্ষী ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেছেন। সাক্ষীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, নিখোঁজ হওয়ার পর রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের বাসা থেকে তার বিছিন্ন মরদেহ ও কাটা মাথা উদ্ধার করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবীর উপস্থাপনায় আদালতে রামিসার মা জানান, স্কুল ছুটির পর বড় মেয়ে রাইসা বাসায় ফিরলে তিনি রামিসার খোঁজ করেন। তখন রাইসা জানায়, রামিসা তার সঙ্গে বাসায় ফেরেনি। পরে অভিযুক্তদের দরজার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। তিনি দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন।

এ সময় রাজু নামের এক যুবক মোবাইল ফোন দিয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে ঘরের ভেতরে অভিযুক্তদের উপস্থিতি এবং রক্তের মতো কিছু দেখতে পান বলে দাবি করা হয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে জানালার গ্রিল কাটা অবস্থায় দেখতে পান। ঘরের একটি কক্ষে রামিসার বিছিন্ন মরদেহ এবং একটি রঙের কৌটার ভেতরে তার কাটা মাথা দেখতে পান বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করা হয়।

রামিসার বড় বোন রাইসা আদালতে বলেন, “বাবা নিচ থেকে হাতুড়ি এনে দরজা ভেঙে ফেলেন। এরপর আমি ভেতরে গিয়ে আমার ছোট বোনের বিছিন্ন দেহ এবং একটি বালতির ভেতরে রাখা কাটা মাথা দেখতে পাই।”

একজন ড্রাইভার, যিনি একই ভবনের চতুর্থ তলায় বসবাস করেন, আদালতে বলেন, তিনি প্রায় তিন বছর ধরে ওই ভবনে থাকছেন। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন সবাই অভিযুক্তদের দরজার সামনে ভিড় করেছেন। পরে রামিসার বাবা হাতুড়ি দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

তিনি আরও বলেন, “ভেতরে ঢুকে টয়লেটে রক্ত দেখতে পাই। খাটের নিচে বিছিন্ন মরদেহ এবং একটি বালতিতে রামিসার কাটা মাথা দেখতে পাই। জানালার গ্রিল কাটা ছিল। অভিযুক্ত সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে তার স্ত্রী সহযোগিতা করেছেন বলে আমার ধারণা।”

সাক্ষী রাজুও আদালতে একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি জানান, দরজার তালা ভাঙার সময় ফাঁক দিয়ে ভিডিও ধারণ করেছিলেন। সেখানে টয়লেটে রক্ত এবং ঘরের ভেতরে স্পনাকে দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর খাটের নিচে রামিসার বিছিন্ন মরদেহ ও কাটা মাথা দেখতে পান।

রাজুর দাবি, ঘটনার পর স্পনা তার স্বামী সোহেল রানাকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। এছাড়া ফ্ল্যাটে একটি সাবলেট কক্ষ থাকলেও সেটি তালাবদ্ধ ছিল এবং ঘরে স্পনা ছাড়া অন্য কাউকে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, এক প্রতিবেশী আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, ঘটনার সময় পাশের ভবন থেকে একজন ব্যক্তিকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেছিলেন। প্রথমে তাকে চোর বলে মনে হলেও পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে তিনি নিশ্চিত হন যে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি মামলার অভিযুক্ত সোহেল রানা।

মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। তবে সাক্ষীদের ধারাবাহিক জবানবন্দিতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক উঠে আসায় আদালত কক্ষজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।



বিষয়:



Top