রামিসা হত্যা মামলা

‘ডলার’ কে? আদালতে সোহেল রানার বিস্ফোরক দাবি

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় নতুন মোড় সৃষ্টি হয়েছে। চার্জ গঠনের শুনানিতে আদালতে হাজির করা হলে প্রধান আসামি সোহেল রানা ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনার মূল হোতা হিসেবে দাবি করেন।

সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সোহেল রানা বলেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে ‘ডলার’ নামের একজন ব্যক্তি। তিনি দাবি করেন, তিনি শুধু মরদেহ টুকরো করে গুম করার চেষ্টা করেছিলেন।

সোহেল রানা বলেন, “আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কাটছি। ধর্ষণ করেছে ডলার। আমি পাপ করেছি, সেই পাপের শাস্তি আমাকে দেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, রামিসাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পাশাপাশি তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নির্দোষ উল্লেখ করে তাকে ভুলভাবে আসামি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

কারাগারে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যান থেকেও একই বক্তব্য পুনরায় দেন সোহেল রানা। তার দাবি, “মিরপুর-১১ নম্বরে ডলারের বাড়ি। ধর্ষণও ডলার করেছে, হত্যাও ডলার করেছে।”

সোহেল রানার এই বক্তব্যের পর ‘ডলার’ নামটি নতুন করে আলোচনায় এলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আসামির এসব বক্তব্য ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

তিনি জানান, মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে।

গত ১৯ মে স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উল্লেখ রয়েছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

এদিকে আদালতে সোহেল রানার নতুন দাবি মামলার তদন্তে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ‘ডলার’ নামে উল্লেখিত ব্যক্তি কে এবং তার সঙ্গে ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।



বিষয়:



Top