আমি শুধু ধর্ষণ করছি, রামিসাকে মারছে ডলার: আদালতে আসামি সোহেল
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করলেও হত্যার দায় অন্য একজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন।
সোমবার ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সোহেল রানা বলেন, তিনি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকলেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন তিনি।
শুনানির জন্য সকালে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে হাজির করা হলে সোহেল সাংবাদিকদের সামনে বলেন, তার স্ত্রীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ঘটনার জন্য অন্য একজন দায়ী।
এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, তার ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়াই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ‘ডলার’ নামে যাকে অভিযুক্ত করছেন, তিনি মিরপুর এলাকার বাসিন্দা বলেও উল্লেখ করেন সোহেল।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের সময় সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত ও আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার পর রামিসাকে কৌশলে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই বাসা থেকে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেন। একই বাসার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার বিচ্ছিন্ন মাথা।
ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে মামলার দুই আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
