পরকীয়া থেকে স্বপ্নার সাথে বিয়ে হয় সোহেলের, চার্জশিটে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোববার ঢাকার প্রধান মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মোহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য পাঠানো হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, স্বপ্না আক্তার আসামি সোহেলের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাদের পরিচয় ও সম্পর্ক পরবর্তীতে বিয়েতে গড়ায়। সোহেলের পূর্ব সংসারেও একটি সন্তান রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে সোহেল পল্লবীর একটি বাসায় ভাড়া নেন। সেখানে তিনি ও তার স্ত্রী এক রুমে থাকতেন এবং অন্য ভাড়াটিয়ারা পাশের রুমে অবস্থান করতেন।
ঘটনার দিন সকালবেলায় শিশু রামিসা বাসা থেকে বের হলে সোহেল তাকে নিজের রুমের সামনে ডেকে নেয় এবং পরে ভেতরে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করে। এতে শিশুটি চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর হত্যাকাণ্ড গোপন করার জন্য মরদেহ টুকরো টুকরো করার মতো নির্মম কাজ করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়।
এদিকে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবার বাসার সামনে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে লাশ উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই সময় স্বপ্না আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতি দেখে তিনি দরজা বন্ধ করে দেন। পরে তিনি দাবি করেন, তার স্বামী পালিয়ে গেছে। এর আগে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। একই ঘটনায় স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশের পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
