সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে অধস্তন আদালতে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুর ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল ঘোষণা করা হয়।

ফলে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়। একই সঙ্গে ২০১৭ সালে প্রণীত অধস্তন আদালতের শৃঙ্খলাবিধিও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আদালতের বন্ধু হিসেবে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের বিচার বিভাগীয় সেবা শৃঙ্খলা বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিট দায়ের করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

রিটকারীদের আইনজীবীদের দাবি, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকলেও বাস্তবে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপের কারণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

এদিকে ১৯৭২ সালের সংবিধানে এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। পরে ১৯৭৪ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে “সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে” শব্দ যুক্ত করা হয়।

পরে পঞ্চম সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা হলে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান বিধানটি পুনর্বহাল করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে সেই বিধানই কার্যকর রয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top