হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ, আদালতে স্বীকারোক্তিতে যা জানালো ঘাতক সোহেল

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ এএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। বুধবার বিকেলে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশ জানায়, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় আদালতে তা রেকর্ডের আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার-কে কারাগারে আটক রাখার আবেদনও করা হয়।

এর আগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। তবে এর মধ্যেই তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মতি দেন।

বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তিনি আদালতে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন।

পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত শিশু রামিসা রাজধানীর একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার সকালে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সোহেল রানার স্ত্রী কৌশলে তাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বিদ্যালয়ে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে অভিযুক্তদের বাসার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান স্বজনরা। পরে অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য একটি কক্ষে বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়।

পুলিশ আরও জানায়, মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন অংশে নৃশংস নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

ঘটনার পর বাসার জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top