সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৩ পদে বিএনপিপন্থীদের জয়

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন (বাঁয়ে) ও মোহাম্মদ আলী। সংগৃহীত ছবি
 

দেশের আইনজীবীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি–এর ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩টি পদে জয় পেয়েছেন বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের (নীল প্যানেল) প্রার্থীরা। সদস্যের একটি পদে জয় পেয়েছেন জামায়াত–সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (সবুজ প্যানেল) প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা–সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে নীল প্যানেলের প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আবদুল বাতেন পেয়েছেন ৭৮৮ ভোট।

সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের মোহাম্মদ আলী ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট।

এর আগে গত ২ এপ্রিল এক নোটিশে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১৩ ও ১৪ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এক বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে রয়েছে একজন সভাপতি, দুইজন সহ-সভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুইজন সহ-সম্পাদক এবং সাতজন সদস্য।

সহ-সভাপতির দুটি পদে নীল প্যানেলের মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান নির্বাচিত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে জয় পেয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সহ-সম্পাদকের দুটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল।

সদস্য পদে নীল প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও মো. টিপু সুলতান। সদস্যের অপর একটি পদে জয় পেয়েছেন সবুজ প্যানেলের আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার ৪৮ জন।

সমিতির নির্বাচন নির্দলীয় হিসেবে পরিচিত হলেও বরাবরই রাজনৈতিক সমর্থনভিত্তিক প্যানেলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। অতীতে বিএনপিপন্থী নীল প্যানেল ও আওয়ামী লীগপন্থী সাদা প্যানেলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেলেও এবার প্রথমবারের মতো আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

গত ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি–সমর্থিত নীল প্যানেল, জামায়াত–সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেলের প্রার্থীরা অংশ নেন। এর মধ্যে নীল ও সবুজ প্যানেল ১৪টি করে পদে প্রার্থী দেয় এবং লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দেয়। এছাড়া কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।



বিষয়:



Top