হাসানুল হক ইনু-র বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় যেকোনো দিন

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হাসানুল হক ইনু-র বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। যেকোনো দিন মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে দাবি করেছে, অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে আসামিপক্ষ বলেছে, অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং ইনুকে খালাস দেওয়া উচিত।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে বিভিন্ন দমনমূলক পদক্ষেপ নিতে উসকানি ও প্ররোচনা দেন ইনু। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’-র দায়ও তার ওপর বর্তায় বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের।

শুনানিতে ইনু ও শেখ হাসিনার কথোপকথনের একটি টেলিফোন রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে গণআন্দোলনকে ‘জঙ্গিবাদ’ আখ্যা দিয়ে কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানানো হয়েছিল বলে দাবি প্রসিকিউশনের।

তবে আসামিপক্ষের বক্তব্য, ওই অডিও রেকর্ডে কোথাও আন্দোলন দমনে গুলি, বোমা হামলা বা নির্যাতনের নির্দেশ বা উসকানির কোনো প্রমাণ নেই। প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া নথিপত্রেও এমন কোনো প্রত্যক্ষ তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি তাদের।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ ডিসেম্বর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে সেদিনই অভিযোগ আমলে নেয় আদালত।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনু আটক হন। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top