পরকীয়া হত্যা মমলায় শেখ হাসিনাসহ ১৬৭ জনকে আসামি

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ০৪:২৩ এএম

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজীপুরে পরকীয়ার জেরে এক যুবক খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে, এটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ড, যাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর শ্রীপুর থানায় নিহত আবু সাঈদের চাচা রাশিদুল ইসলাম একটি মামলা করেন। ওই এজাহারে বলা হয়, ২ অক্টোবর রাতে একটি সেলুনের ভেতরে আবু সাঈদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই মামলায় একমাত্র আসামি ছিল খলিল নামের একজন ব্যক্তি।

এর এক মাস পর নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম গাজীপুর আদালতে আরেকটি মামলা করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্ট শ্রীপুর ফ্লাইওভার এলাকায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে তার ছেলেকে গুলি ও চাপাতির আঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

একই ঘটনায় দুই ধরনের ভিন্ন বর্ণনা সামনে আসায় তদন্তকারীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের একজন কর্মকর্তা স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে নিশ্চিত হন, নিহত আবু সাঈদের সঙ্গে পাশের এলাকার এক বিবাহিত নারীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের জের ধরেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ঘটনা বা আন্দোলনের সম্পর্ক নেই।

পরবর্তীতে নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেন, তিনি এক আইনজীবীর পরামর্শে ১৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তবে তিনি ওই আইনজীবীর নাম প্রকাশ করেননি।

তিনি আরও জানান, তিনি প্রকৃত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অবগত থাকলেও রাজনৈতিকভাবে মামলাটি সাজানো হয়েছিল।

পরবর্তীতে রফিকুল ইসলাম আদালত থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আইন অনুযায়ী, মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও এ ঘটনায় এখনো কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত অপরাধকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে গণহারে আসামি করার প্রবণতা বিচার ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং প্রকৃত অপরাধ তদন্তে বাধা সৃষ্টি করছে।



বিষয়:



Top