মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথম ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ
স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৫ এএম
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন।
জানা গেছে, গত বছর তিনি নিজের সাজা স্থগিতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী এই আবেদন করা হয়।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন। তবে আদালত তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে এক বছরের জন্য স্থগিত করেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তার মধ্যে ৭টিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ৩টির জন্য মৃত্যুদণ্ড, ৪টির জন্য কারাদণ্ডের সুযোগ থাকলেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়নি। অপর একটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খারিজ করা হয়।
আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে: ১৪ জনকে হত্যা, ৩ নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, ৫ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন।
এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধের মামলায় প্রথম রায় ঘোষণা হয়। তবে পলাতক থাকার কারণে তাকে তখন আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং এরপর রায় সিএভি রেখে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বিষয়:
