শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা
Nasir Uddin | প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারী ২০২৫, ১২:২৯ পিএম
গত ১৫ বছরের গুমের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ পরোয়ানা জারি করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে এরমধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জীবন্ত মানুষের ঠোঁটে সেলাই, সরাসরি মাথায় গুলি করে হত্যা, বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেয়া। গুম কমিশনের রিপোর্টে উঠে এসেছে এসব ভয়াবহ নির্যাতনের তথ্য। সন্ধান মেলে গোপন একাধিক বন্দিশালার। ১৫ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় কমিশন। সংশ্লিষ্টতা মিলেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতেরও।
গুম কমিশনের রিপোর্টে আরো বলা হয়-গুমের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে র্যাব, ডিবি, সিটিটিসি, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এবং এনএসআই প্রধান ভূমিকা পালন করে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ আওয়ামী লীগের আমলে ঘুম করা হয়ে হাজারেরও বেশি মানুষকে। এর মধ্যে কেউ ফিরেছেন, কেউ হারিয়ে গেছেন চিরতরে।
সোমবার গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শেখ হাসিনা, তারিক আনাম সিদ্দিকী, বেনজীর আহমেদসহ এরকম ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গুমের সঙ্গে জড়িত সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে হাজির করতে বলা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করত শেখ হাসিনার সরকার।
এদিন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন গুম পরিবারের সদস্যরা। রাষ্ট্র বিচারের উদ্যোগ নেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত গুমের ঘটনায় কমিশনে ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়।
