টিকটকে আসক্ত স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা, স্বামী আটক
আব্দুল হামিদ শেখ | প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৪৯ এএম
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে টিকটক নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সুমনা ফেরদৌসীকে (৩৬) হত্যার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে নিজ এলাকা থেকে অভিযুক্ত লিমনকে আটক করা হয়। তিনি চরদিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে। নিহত সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। তিনি লিমনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে নিয়মিত ভিডিও পোস্ট করতেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদানকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো। এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে ওই বিরোধের জেরে সুমনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন লিমন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মরদেহ ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রেখে দরজা বন্ধ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।
বিকেল ৫টার দিকে বাড়িতে ফিরে তিনি দরজা খুলে চিৎকার শুরু করেন। তার কান্নার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করা হলেও পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় সুমনার সঙ্গে লিমনের পরিচয় হয়। ২০২১ সালে তারা বিয়ে করেন। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে।
সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসার পর পারিবারিক কলহ তীব্র আকার ধারণ করলে লিমনের প্রথম স্ত্রী একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। লিমন স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কাঠকাটা শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতেন।
এদিকে, নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়:
