কুড়িগ্রাম সীমান্তে শূন্যরেখায় ৯ নাগরিক, বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ এএম
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে একাধিক দফায় নয়জন নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এ ঘটনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দুই দেশের মধ্যে কোম্পানি পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি। ফলে ওই নাগরিকরা বর্তমানে শূন্যরেখায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানায়, রোববার ভোরে শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের নির্দিষ্ট পিলারসংলগ্ন অংশ দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বাধায় তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেন।
একই দিনে ভন্দুরচর সীমান্ত এলাকায় আরও তিনজনকে একইভাবে ঠেলে পাঠানোর ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলা এগারোটার দিকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন জামালপুর অঞ্চলের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন কোম্পানি কমান্ডার। অপরদিকে ভারতের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন সংশ্লিষ্ট সীমান্ত শিবিরের এক কর্মকর্তা।
দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান না আসায় পুশইনের শিকার নয়জন নাগরিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, ভোরের ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, ভোরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
