রাশিয়ায় ৫ বাংলাদেশি নিখোঁজ, ড্রোন হামলায় মৃত্যুর গুঞ্জনে স্বজনদের উৎকণ্ঠা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
উন্নত জীবনের আশায় কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন জামালপুর ও টাঙ্গাইলের পাঁচ বাংলাদেশি যুবক। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজদের মধ্যে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিন যুবক রয়েছেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকায় পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নিখোঁজ দুইজন হলেন চরগুজামানিকা গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল ওরফে মফিজ (২৩) এবং রায়েরছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসাইন (৩০)। গত ৭ মে রাজমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের উদ্দেশ্যে তারা রাশিয়ায় যান।
পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দালালচক্র তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। গত ২৯ মে থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
আরিফের বাবা তারা মিয়া জানান, শেষবার ফোনে তার ছেলে বলেছিল, দালালচক্র তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর চেষ্টা করছে। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
অন্যদিকে মাফুলের মা মাহফুজা বেগম বলেন, “আমার ছেলে কাজ করতে বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় মারা গেছে। আমি আমার ছেলেকে ফিরে চাই, না হলে তার মরদেহ চাই। যারা প্রতারণা করে তাকে পাঠিয়েছে, তাদের বিচার চাই।”
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন কাজ করবে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম, মজিদপুর গ্রামের পবিত্র চন্দ্র এবং বীর নলহরা গ্রামের নজরুল ইসলামও গত ৭ মে নির্মাণকাজের ভিসায় রাশিয়ায় যান।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীর একটি রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের রাশিয়ায় পাঠায়। পরে তাদের জোর করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
নজরুল ইসলামের স্ত্রী আছমা বেগম জানান, ঈদের রাতে স্বামী ফোন করে বলেছিলেন, “পাঁচজনের একটি গ্রুপ করে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। বাঁচব কি মরব জানি না।”
পবিত্র চন্দ্রের বাবা পরেশ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, তার ছেলে শেষবার ফোনে জানায় যে তাদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে এবং দ্রুত দূতাবাসের সহায়তা চেয়েছিল।
গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের খবর শুনেছেন, তবে মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। একই কথা জানিয়েছেন গোপালপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নবাব আলীও।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ফর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডসের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অন্তত ৩৪ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা ৩৭ জনে পৌঁছেছে। সর্বশেষ নিখোঁজ পাঁচ যুবকের মৃত্যুর খবর সত্য হলে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ৪২ জনে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিষয়:
