অনলাইনে হাজিরা দিতে আম গাছে প্রধান শিক্ষক
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয়েছে একটি আমগাছের ডালের। নতুন সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের অনলাইনে উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই এই ঘটনা সামনে আসে, যা পাহাড়ি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের নেটওয়ার্ক সংকটকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের নিয়ম অনুযায়ী হাজিরা খাতার ছবি তুলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নেন। কিন্তু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় শুরু হয় তার নেটওয়ার্ক খোঁজার চেষ্টা।
প্রথমে বিদ্যালয় ভবনের ছাদে ওঠেন তিনি। সেখানেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে পাশের পাহাড়ে যান। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সংযোগ মেলেনি সেখানে। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের ডালে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্কের সিগন্যাল পান এবং সেখান থেকেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা খাতার ছবি পাঠাতে সক্ষম হন।
পরে গাছে বসে হাজিরা পাঠানোর সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব চিত্রের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আবু তাহের বলেন, বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিয়ম অনুযায়ী হাজিরা খাতার ছবি তুলি। এরপর একাধিক স্থানে চেষ্টা করেও নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গাছে উঠে তথ্য পাঠাতে হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্যই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন উপস্থিতি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষকদের হাজিরা খাতার ছবি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয় থেকে অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের উপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে হাজিরার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব বিদ্যালয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই বা দুর্বল, সেসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিকল্প উপায়ে সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটির ৭০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৫৩৮টি বিদ্যালয় অনলাইনে হাজিরা পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। তবে মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতার কারণে ১৭০টি বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচু এলাকায় অবস্থিত। ফলে সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের সংকট দীর্ঘদিনের। অনলাইনভিত্তিক নতুন উপস্থিতি ব্যবস্থার প্রথম দিনেই সেই বাস্তবতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের গাছে উঠে হাজিরা পাঠানোর ঘটনায়।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
