পতাকা বৈঠকেও সমাধান হয়নি

সীমান্তে আটকে আছে পুশইনের শিকার ১২ জনের ভাগ্য

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:১১ এএম

সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিজিবির আহ্বানে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাব-পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সীমান্তে আটকে থাকা ১২ জনকে দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। তবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) জানায়, তাদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত তারা সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান করবে বলে জানানো হয়।

এর আগে শুক্রবার রাত থেকে দৌলতপুর সীমান্তের আরও দুটি পয়েন্ট দিয়ে নতুন করে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। প্রাগপুর ও জয়পুর সীমান্ত দিয়ে মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

শনিবারের পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা এবং প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার আসাদুজ্জামান। বিএসএফের পক্ষে ছিলেন রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার সুনীল কুমার যাদব।

বিজিবি জানায়, শুক্রবার ভোরে প্রথমবার ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়, তবে স্থানীয় জনগণ ও টহলরত বিজিবির সতর্কতায় তারা প্রবেশ করতে পারেনি। পরে দুই দফা চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

এদিকে সীমান্তে আটকে থাকা ওই ১২ জন এখনো ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন। তারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন এবং শনিবার সকালেও সীমান্তবর্তী এলাকায় দেখা গেছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “পতাকা বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। বিএসএফ জানিয়েছে যাচাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাংলাদেশ কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না।”



বিষয়:



Top