কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকট, বন্ধ ৩ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০১:১৮ এএম
তীব্র গরম ও বৃষ্টিপাতের ঘাটতির কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ক্রমাগত কমে যাওয়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমানে চালু থাকা দুইটি ইউনিট থেকেও সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এসব ইউনিট থেকে মোট প্রায় ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
পূর্ণ সক্ষমতায় কেন্দ্রটি চালু থাকলে পাঁচটি ইউনিট থেকে প্রায় ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৩ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, বছরের এই সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্বাভাবিক স্তর থাকার কথা প্রায় ৭৮.০৮ মিন সি লেভেল (এমএসএল), কিন্তু বর্তমানে তা নেমে ৭৩.৯৯ এমএসএলে অবস্থান করছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, পানির স্তর কমে যাওয়ায় তিনটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা দুইটি ইউনিট দিয়েও সীমিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই নয়, বরং কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল রাঙ্গামাটির একাধিক উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য, কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভর করে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুড়াছড়ি উপজেলার নৌপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। পানির স্তর কমে গেলে এসব এলাকায় নৌচলাচল ব্যাহত হয়, ফলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
