পিডি নিয়োগ নিয়ে তৎপরতা
আওয়ামী আমলের বিতর্কের পর নতুন করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
খুলনা জেলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০১:০৭ এএম
খুলনাবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসন ও লবণাক্ততা দূরীকরণের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় খুলনা ওয়াসা। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নানা রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়োগ বিতর্ক এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি খুলনা ওয়াসার ‘পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২)’-এর পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
ওয়াসার অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলামের পদোন্নতি ও বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, ফেজ-২ প্রকল্পের ফোকাল পারসন ও পরবর্তীতে পিডি নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে নানা ধরনের তদবির ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে কিছু গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ এবং অভ্যন্তরীণ নথি ফাঁসের অভিযোগও সামনে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে মো. রেজাউল ইসলামকে চার মাসের জন্য ফেজ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের (রুটিন) দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে সরকার পূর্ণকালীন পিডি নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ লক্ষ্যে যোগ্য চারজন প্রকৌশলীর সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে।
খুলনা ওয়াসার নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহ বলেন, “আমি মাত্র কয়েক দিন হলো খুলনা ওয়াসায় যোগদান করেছি। অতীতের সমস্যাগুলো সমাধান করে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করবো। সকল প্রকার অনিয়মের ঊর্ধ্বে থেকে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে চাই।”
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, “ফেজ-২ প্রকল্পের পিডি নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। খুলনা ওয়াসা এখনো নাগরিকদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি।”
পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, “ওয়াসার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নগরবাসীর জন্য মানসম্মত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। তাই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দক্ষ ও কর্মক্ষম ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।”
নগরবাসীর প্রত্যাশা, খুলনা ওয়াসার ফেজ-২ প্রকল্পে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান উন্নত হবে এবং নগরবাসী কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাবে।
বিষয়:
