সীমান্তে পুশইন নিয়ে উত্তেজনা, আতঙ্কে যশোরের বাসিন্দারা
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর পুশইন চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যশোরের বেনাপোল সীমান্তের শাদিপুর এলাকায় গত ৩০ মে গভীর রাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৫ জনকে শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে বিএসএফের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সে সময় বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করে। পরবর্তীতে চার দিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর ওই ১৫ জনকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে সীমান্তবাসীর অভিযোগ, কাঁটাতারবিহীন অংশ দিয়ে প্রায়ই অবৈধ চলাচল ও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে, পাশাপাশি পুশইনের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়, যা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, কৃষিকাজ বা দৈনন্দিন কাজে সীমান্ত এলাকায় যাতায়াতের সময়ও নানা জটিলতা তৈরি হয়। তারা সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পতাকা বৈঠকসহ কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
যশোর জেলার ভারত সীমান্তের প্রায় ১৪২ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে, যার বড় অংশই অরক্ষিত বলে জানা যায়। ফলে সেখানে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের সীমান্ত অপরাধের ঘটনা ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ায় বিজিবির আধুনিকায়ন, জনবল বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির বিপরীতে সীমিত সক্ষমতা নিয়ে সীমান্ত রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে তারা একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলছে, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল আলম খান বলেন, “অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও বিজিবি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করছি এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতাও নিচ্ছি।”
সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
