ধর্মপাশায় পূর্ববিরোধের জেরে চা ব্যবসায়ী নিহত, অভিযুক্তরা পলাতক

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই ক্বারীর বাজারে পূর্ববিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় নাসিম মিয়া (৩৫) নামে এক চা ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত নাসিম মিয়া উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই মড়লবাড়ী গ্রামের মৃত মঞ্জুরুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় ক্বারীর বাজারে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন।

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাসিম মিয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের সুনই বাগবাড়ী গ্রামের আনু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করার সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাসিম দোকানের বাইরে চলে গেলে আনু মিয়া ও তার বড় ভাই লিটন মিয়া তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়রা আহত নাসিমকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে সকাল ১০টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নাসিমের বড় ভাই আল আমিন অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের জেরে কয়েকজন মিলে তার ভাইকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী জিকু মিয়া জানান, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আনু মিয়া ও লিটন মিয়া নাসিমকে মারধর করেন। এ সময় তাদের থামাতে গিয়ে তিনিও আহত হন।

তবে অভিযুক্তদের মধ্যে মেহেদী হাসান ডালি ও মো. অলি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের পরিবারকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত আনু মিয়া ও লিটন মিয়া পলাতক রয়েছেন।

ধর্মপাশা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমাম হোসেন বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



বিষয়:



Top