মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তী সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুটি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আগের দিন বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি মিছিলের প্রতিবাদে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ছাত্রদলের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের অনুসারী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

অন্যদিকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর মাইকে প্রচার হওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়।

একপর্যায়ে ছাত্রদলের দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে রাতের দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন।

সংঘর্ষে শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন। তাদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল দাবি করেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশেই ছাত্রলীগের লোকজন জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেন।

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হামলা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

তবে এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top