নওগাঁয় মৌসুমে নষ্ট হয় ৩০০ কোটি টাকার আম, শিল্পায়নের দাবি চাষিদের

নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ। গাছে গাছে এখন আমের সমারোহ, বাজারে আসার অপেক্ষায় জনপ্রিয় আম্রপালি। তবে ভালো ফলনের সম্ভাবনার মধ্যেও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আমচাষিরা। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং আম প্রক্রিয়াজাত শিল্পের অভাবে প্রতিবছর ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ আম।

চাষিদের অভিযোগ, প্রতি বছর উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও সেই অনুপাতে আমের দাম বাড়ে না। বরং মৌসুমে ফলন বেশি হলে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে দাম আরও কমে যায়। এতে বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করতে হয় কৃষকদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন আম।

সাপাহার উপজেলার কুচকুড়িলিয়া গ্রামের আমচাষি রেদওয়ানুর রহমান মুন বলেন, আম্রপালি আম পাকার পর ২৫ থেকে ৩০ দিনের বেশি গাছে রাখা যায় না। এ সময় বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে গেলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেন। ফলে কৃষকদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়। তিনি বলেন, বড় হিমাগার বা আমভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

পোরশা উপজেলার আমইড় গ্রামের চাষি মতিউর রহমান বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া শুরু থেকেই আম চাষের অনুকূলে ছিল না। ফলে অধিকাংশ বাগানেই ফলন কম হয়েছে। গত বছর আম্রপালি আমের দাম মণপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল। এ বছর ৩ হাজার টাকার নিচে বিক্রি হলে উৎপাদন খরচ তোলা কঠিন হবে। তিনি আমকেন্দ্রিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ম্যাংগো প্রসেসিং জোন স্থাপনের দাবি জানান।

সাপাহার উপজেলা আম আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, সাপাহার দেশের সবচেয়ে বড় আমের হাটগুলোর একটি। মৌসুমে এখানে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়। তবে উৎপাদিত আমের প্রায় ২০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, আমভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয়েই উপকৃত হবেন।

এ বিষয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমন্বয় সভায় আমভিত্তিক শিল্প স্থাপনের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় সাপাহার অঞ্চলে কুলিং হাউস ও প্যাকিং হাউস নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব অবকাঠামো গড়ে উঠলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



বিষয়:



Top