চীনা যুবকের প্রেমের টানে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে আগমন
ফরহাদ হোসেন রাজ | প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগভিত্তিক একটি অ্যাপে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের টানে ছুটে এসেছেন চীনের এক যুবক। বর্তমানে তিনি উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের সোনারুহাটি গ্রামে অবস্থান করছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
চীনা ওই যুবকের নাম লি ওয়েই (৪১)। তিনি চীনের গানসু প্রদেশের পিংলিয়াং সিটির লিংতাই কাউন্টির বাসিন্দা। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি আগে একটি লজিস্টিকস কোম্পানিতে চাকরি করতেন, বর্তমানে ভ্রমণ করছেন।
লি ওয়েই জানান, সামাজিক যোগাযোগের একটি অ্যাপের মাধ্যমে অনিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে অনিকার আমন্ত্রণে তিনি বাংলাদেশে আসেন।
তিনি আরও বলেন, অন-অ্যারাইভাল ভিসা পেতে তার প্রায় এক মাস সময় লেগেছে। গত ২৬ মে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। এরপর কয়েকদিন রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অবস্থান করে পরে অষ্টগ্রামে আসেন। তার ভিসার মেয়াদ এক মাস, প্রয়োজনে নবায়নের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
লি ওয়েই বলেন, তার আগে একটি স্বল্পস্থায়ী বিয়ে হয়েছিল, যা টেকেনি। বর্তমানে তিনি অবিবাহিত। অনিকার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি জানান, বিয়ে হলে তা দুই পরিবারের সম্মতি ও আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই হবে। কেউ রাজি না থাকলে তিনি চীনে ফিরে যাবেন।
অন্যদিকে, যার টানে চীনা যুবকের বাংলাদেশে আগমন, সেই মোছাঃ অনিকা আক্তার (১৪) বর্তমানে উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার পারিবারিক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তিনি নানাবাড়ি অষ্টগ্রামের দেওঘর ইউনিয়নে বড় হয়েছেন।
অনিকা আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে তিনি তাকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান। তাকে ভালোভাবে জেনে ও দেখে ভবিষ্যতে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে অনিকার পরিবার ও স্বজনরা জানান, চীনা যুবককে তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। সবকিছু ভালো মনে হলে ভবিষ্যতে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শুরুতেই মেয়েকে চীনে পাঠানোর বিষয়ে তারা রাজি নন। আগে দুই দেশ যাতায়াত ও পারিবারিক পরিবেশ যাচাই করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে চীনা নাগরিকের এই আগমনকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই তাকে দেখতে উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন ওই এলাকায়।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি বলে জানা গেছে।
বিষয়:
