কলেজছাত্রীকে নিয়ে উধাও শিক্ষক, ২৬ দিন পর উদ্ধার
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়া এক কলেজছাত্রীকে ২৬ দিন পর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত ৩১ মে কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তাকে নিজের হেফাজতে রাখা অভিযুক্ত শিক্ষককেও আটক করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা গ্রামের বাসিন্দা বেলি রানী ভৌমিকের মেয়ে পলি কুমারী ভৌমিক গত ৫ মে সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন রায়গঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরিবারের অভিযোগ, রায়গঞ্জ উপজেলা সদর মহিলা কলেজের শিক্ষক রবিউল আলম কৌশলে ওই ছাত্রীকে নিয়ে যান। অভিযুক্ত শিক্ষক একই উপজেলার কয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নিখোঁজ ছাত্রী যে কলেজে অধ্যয়ন করে, তিনি সেখানেই কর্মরত।
ছাত্রীর মা বেলি রানী ভৌমিক জানান, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর তারা নিশ্চিত হন যে শিক্ষক রবিউল আলম তাকে বিয়ের প্রলোভন অথবা অন্য কোনো উপায়ে সঙ্গে নিয়ে গেছেন। পরে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ছাত্রীর অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী এলাকায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে কলেজছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ছাত্রীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসানুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া ছাত্রীর জবানবন্দি, ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
