মাজারের দিঘিতে কুমিরে টেনে নেয়া সেই ফাতেমার মরদেহ ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলীর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ হওয়া সাত বছর বয়সী ফাতেমার মরদেহ প্রায় ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটসংলগ্ন পূর্ব পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন মাজারের খাদেমরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নামলে হঠাৎ একটি কুমির ফাতেমাকে টেনে নিয়ে যায়। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা দ্রুত নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
খবর পেয়ে অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতভর অনুসন্ধান চালান। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার ভোর চারটা চল্লিশ মিনিটের দিকে মাজারের খাদেমরা দিঘির মহিলা ঘাটের পূর্ব পাশে ফাতেমার মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ঘাটে নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাতেমা তার বাকপ্রতিবন্ধী মায়ের সঙ্গে মাজার এলাকায় বসবাস করত। শিশুটির বয়স এক বছর থাকতেই তার মা তাকে নিয়ে সেখানে আশ্রয় নেন। মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও বাকপ্রতিবন্ধকতার কারণে তার মায়ের কাছ থেকে বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর থেকে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন ফাতেমার মা। মেয়ের ব্যবহৃত ওড়না ও পানির বোতল বুকে জড়িয়ে তিনি দীর্ঘ সময় দিঘির ঘাটে নীরবে বসে ছিলেন, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাজার কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
