সাত মাসের প্রেম এক মাসের ভিসা,বাংলাদেশে চীনা প্রেমিক
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬, ১০:২২ এএম
ভালোবাসার কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই—এই কথাটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন চীনের ৩২ বছর বয়সী নাগরিক ওয়াং ইউলাই। প্রেমিকার টানে সুদূর চীন থেকে তিনি এসেছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে, উদ্দেশ্য বাংলাদেশি তরুণী আনিকা আক্তারকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করা।
শনিবার (৩০ মে) তিনি মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামের আনিকার বাড়িতে পৌঁছান। ওয়াং ইউলাই চীনের রাঙ্গগুই প্রদেশের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে ‘ওয়ার্ল্ড টক’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব থেকে শুরু হলেও ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক গভীর প্রেমে রূপ নেয়। দীর্ঘ ভার্চুয়াল যোগাযোগের পর অবশেষে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এক মাসের ভিসায় বাংলাদেশে আসেন তিনি।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে ওয়াং ইউলাই বলেন, তিনি আনিকাকে গভীরভাবে ভালোবাসেন এবং তাকে বিয়ে করে সুখী সংসার গড়তে চান। তিনি জানান, বাংলাদেশে এসে মেয়েটির পরিবারের কাছ থেকে যে আন্তরিকতা পেয়েছেন তা তাকে মুগ্ধ করেছে। বিয়ের আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন বলেও উল্লেখ করেন।
চীনা নাগরিকদের নিয়ে কিছু নেতিবাচক ধারণার বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু অসাধু চক্রের কারণে ভুল ধারণা তৈরি হলেও তিনি সম্পূর্ণ বৈধ ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিয়ে সম্পন্ন করতে চান।
অন্যদিকে আনিকা আক্তার বলেন, অনলাইনে পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং এখন তারা বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্ককে পূর্ণতা দিতে চান।
চীনা যুবকের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ তাকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে আনিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মির্জাপুর থানায় যান ওয়াং ইউলাই। সেখানে তিনি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
ওসি জানান, তারা থানায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন এবং চীনা নাগরিক তার বৈধ পাসপোর্ট প্রদর্শন করেছেন। প্রয়োজন হলে বিয়ে ও অন্যান্য বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন আইনি সহায়তা দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
