দহগ্রামে যুবদল নেতার চাল কান্ড: সচিব বললেন তারাও তো গরীব-দুঃখী মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে গরীব-দুঃখীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল যুবদলের খেলার জন্য বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।

 

রোরবার (২৪ মে) ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় কয়েকটি ভ্যানে করে ৮ থেকে ১০ বস্তা চাল যুবদলের খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ বস্তা চাল সুকৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, গত রবিবার দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১ হাজার ৪০০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি সচিব ও কয়েকজন সদস্যের যোগসাজশে প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্রদের বঞ্চিত করে বিপুল পরিমাণ চাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ভ্যানে করে ৮ থেকে ১০ বস্তা চাল সরাসরি যুবদলের খেলার জন্য পাঠানো হয়।

 

এ সময় ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর ইসলাম এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরসহ আরও অনেকে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগপন্থী চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। এছাড়া ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যানও দীর্ঘদিন অনুপস্থিত। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় পাটগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার হামিদুল সরকারকে। কিন্তু যেদিন ১ হাজার ৪০০ মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়, সেদিন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, প্রশাসক কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)—কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে ইউপি সদস্যরা নিজেদের ইচ্ছামতো চাল বিতরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এই অনিয়মের বিষয়টি মুঠোফোনে স্বীকার করেছেন দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মইনুল। তিনি বলেন,

“আমরা তো দল করি, আমাদের দলের দায়িত্বশীলরা সেখানে ছিলেন। চেয়ারম্যান যেহেতু আওয়ামী লীগ করেন, তিনি পলাতক। প্রশাসকও সেদিন আসেননি। যুবদলের নামে সরাসরি চাল দেওয়া হয়নি; তারা আমাদের ভোটার আইডি কার্ড দিয়েছিল, আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডের তালিকায় তাদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছি। সেখান থেকেই তারা চাল পেয়েছে।”

 

অভিযুক্ত দহগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব রাজুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবীন্দ্রনাথ বর্মন ঘটনার সাফাই গেয়ে বলেন, “যুবদলের লোকজন আইডি কার্ড জমা দিয়েছে, তাই আমরা তাদের চাল দিয়েছি। তারাও তো গরীব-দুঃখী মানুষ।”

 

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পাটগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার হামিদুল সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, “আমি যেহেতু আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম, তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জেনে আপডেট জানাব।”

তবে পরে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

 

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান। তিনি বলেন, “বিষয়টি ইতোমধ্যে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



বিষয়:



Top