ওমানে একসঙ্গে ৪ ভাইয়ের মৃত্যু, জানাজা পড়ালেন বেঁচে থাকা একমাত্র ভাই

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০৩:৫৬ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ওমানে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের একই পরিবারের চার ভাইকে বুধবার নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকালে রাঙ্গুনিয়ার হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেই হৃদয়বিদারক জানাজায় ইমামতি করেন জীবিত থাকা একমাত্র ভাই এনামুল হক।

প্রবাস জীবনের স্বপ্ন নিয়ে একে একে পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজন ওমানে পাড়ি জমান। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে তারা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

মঙ্গলবার রাতে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

ভোর থেকেই চার ভাইয়ের শেষবারের মতো মুখ দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের হাজারো মানুষ। পাশাপাশি রাখা চারটি লাশবাহী খাটিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন, কেউ আবার বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না একই পরিবারের চার ভাই একসঙ্গে চলে গেছেন।

জানাজার আগে উপস্থিত মানুষের সামনে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জীবিত ভাই এনামুল হক। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি শুধু বলেন, “আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন।” পরে সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চার ভাইকে দাফন করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় বারো বছর আগে পরিবারের বড় ভাই প্রথম ওমানে যান। পরে একে একে অন্য ভাইয়েরাও সেখানে গিয়ে গাড়ি ধোয়ার ব্যবসা শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে ওঠেন। কয়েক বছর আগে দেশে জমি কিনে নতুন বাড়ি নির্মাণও শুরু করেছিলেন তারা। পরিবারের দুই ভাই সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন, যাদের একজন মাত্র কয়েক মাস আগে ওমানে গিয়েছিলেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর আগেই জানাজা ও দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিহত প্রত্যেক প্রবাসীর পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং দ্রুত সেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সময়ে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় কেনাকাটা শেষে একটি ক্লিনিকের সামনে গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চার ভাই। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top