খুলনা-যশোর সড়ক অবরোধ

কাঁচা পাট রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিজেএ’র আন্দোলনের ঘোষণা

খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নেয়া কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ)। আজকের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বুধবার থেকে লাগাতার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। একই দাবিতে খুলনার দৌলতপুরে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করেন জুট প্রেস শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে দৌলতপুরে বিজেএ’র সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বিজেএ চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির অভিযোগ করেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থে বিজেএ’র সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বেসরকারি জুটমিলগুলোর জন্য এককভাবে পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সৃষ্টি করেন। সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ এর পরিশিষ্ট-২ এ কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, এর ফলে কাঁচা পাট রপ্তানিকারকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং এ খাতের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে কৃষকরা পাটের ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিজেএ চেয়ারম্যান জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৭৫ লাখ বেল পাট উৎপাদিত হয় এবং বছর শেষে সাড়ে তিন লাখ বেল উদ্বৃত্ত থাকে। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ১৫ লাখ বেলে। আগের বছরের উদ্বৃত্তসহ বর্তমানে দেশে মোট মজুত রয়েছে ৮৬ দশমিক ৬৭ লাখ বেল কাঁচা পাট।

তার দাবি, দেশের পাটকল ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পরও বিপুল পরিমাণ কাঁচা পাট উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে। অথচ মাত্র ৮ থেকে ১০ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানির সুযোগ থাকলেও সরকারের আরোপিত শর্তের কারণে রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত দেশে ২০ দশমিক ৪০ লাখ বেল কাঁচা পাট মজুত রয়েছে। কিন্তু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৮৬ হাজার ৩৬৭ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি সম্ভব হয়েছে, যা থেকে এসেছে মাত্র ১৪৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা।

খন্দকার আলমগীর কবির অভিযোগ করেন, অতীতে কয়েক দফা কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের ওপর আস্থা হারিয়েছেন এবং তাদের অনেক জুটমিল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কাঁচা পাটের চাহিদা কমে গেছে।

তিনি বলেন, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, বৃহত্তর ফরিদপুর ও উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রায় ৪০টি জুট প্রেস হাউস দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

বিজেএ চেয়ারম্যান জানান, ব্যবসা বন্ধ থাকলেও গুদাম ভাড়া, ব্যাংক ঋণের সুদ, শ্রমিক হাজিরা ও অন্যান্য খরচ বহন করতে হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

তিনি বলেন, কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকা থেকে অব্যাহতি না দেয়া পর্যন্ত বুধবার থেকে দৌলতপুরে বিজেএ কার্যালয়ের সামনে ধারাবাহিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে রপ্তানি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে শ্রমিকরা প্রায় এক ঘণ্টা খুলনা-যশোর সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেএ’র পরিচালক বদরুল আলম মার্কিন, খাইরুজ্জামান, নুর ইসলাম বাচ্চু, শামীম আহমেদ, কুতুব উদ্দিন, প্রিন্স মাহমুদ, রঞ্জন কুমার দাস, আলমগীর খান, সাইফুল ইসলাম মানুসহ সংগঠনের বিভিন্ন সদস্য ও জুট শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

 
 
 


বিষয়:



Top