ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
 

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ইভটিজিংয়ের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গোয়ালগ্রাম কামিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার নাতি ও সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য মাসুম বিল্লাহ বিন নাজিম।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার মাহমুদ ইউনিয়নের গোয়ালগ্রাম নতুন বাজারের সিরাজ মার্কেটের একটি কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুম বিল্লাহ বিন নাজিম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালগ্রাম কামিল মাদ্রাসার শৃঙ্খলা, শিক্ষার পরিবেশ ও নৈতিক মান রক্ষায় কাজ করে আসছেন। সম্প্রতি মাদ্রাসার অভ্যন্তরে বিভিন্ন অনিয়ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের অভিযোগ সামনে এলে তিনি অধ্যক্ষের সহযোগিতায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

তিনি দাবি করেন, তদন্তে মাদ্রাসার কয়েকটি কক্ষে নির্ধারিত সময়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান, কিছু ব্যক্তির সহযোগিতা, সিসি ক্যামেরা নষ্ট করা, দরজা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নিয়মিত তদারকিতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা উঠে আসে। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও ক্লাসে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগও পাওয়া যায়।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, এসব বিষয়ে তদন্ত ও শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ এনে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, “প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করতেই পরিকল্পিতভাবে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কোনো অনৈতিক আচরণ বা ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগকারী এক শিক্ষার্থীকে জোর করে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও আইনসম্মত তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তাকে ফোন করে মাদ্রাসায় যেতে চাপ প্রয়োগ করেছেন এবং না গেলে শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে তুলে আনবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মটু, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেনসহ স্থানীয় শতাধিক ব্যক্তি।

সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ আগে মাদ্রাসা গেট এলাকা থেকে তাহেরিয়া খতমে কুরআন বাংলাদেশ সংগঠনের চার সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করে বলে জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, তাদের ব্যবহৃত ব্যাগ থেকে সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। পরে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আরও চারজন পালিয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়।

এদিকে, এর আগে মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ স্থানীয় এক প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের পাশেই শিক্ষকদের আবাসিক কক্ষ রয়েছে। দুপুরে ক্লাস চলাকালে এক শিক্ষককে সেখানে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ওই শিক্ষক বিশ্রাম নিচ্ছিলেন বলে জানান।

মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, মাদ্রাসার অনিয়ম ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের বিষয়গুলো নজরদারিতে আনতে চাওয়ায় একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। আসন্ন পরিচালনা কমিটিতে তার প্রস্তাবনা থাকায় কিছু ব্যক্তির স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”



বিষয়:



Top