শিক্ষামন্ত্রীর সাবেক এপিএস ওমর ফারুকের পরিচালক পদে নিয়োগ বাতিল

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০২:৫৫ এএম

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) পরিচালক (প্রশাসন) পদে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানের নিয়োগ বাতিল করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে গত ১৪ মে বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা ওমর ফারুক দেওয়ানকে ডিপিইর পরিচালক (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই নিয়োগকে ঘিরে শিক্ষা প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত পাঁচ দিনের মাথায় সেই আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওমর ফারুক দেওয়ান সম্প্রতি শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বদলি ও তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব বিষয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনের পর সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে এপিএস পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে বলে জানা যায়।

তবে মন্ত্রণালয় থেকে সরানোর পরই তাকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক পদে পদায়ন করায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সমর্থকরা আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সূত্র জানায়, ওমর ফারুক দেওয়ানের মূল পদ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন মন্ত্রীদের প্রশংসা করে বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিক কলাম লিখেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত পোস্ট দিতেন বলে সমালোচনা রয়েছে।

এছাড়া সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

এদিকে প্রশাসনিক দিক থেকেও তার পদায়ন নিয়ে জটিলতার কথা উঠে আসে। কারণ পরিচালক (প্রশাসন) পদটি তৃতীয় গ্রেডের হলেও ওমর ফারুক দেওয়ান বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। বিধি অনুযায়ী চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাকে তৃতীয় গ্রেডের পদে পদায়ন করা যায় না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “১৪ মে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পদে প্রেষণে নিয়োগের আদেশ এতদ্বারা বাতিল করা হলো।” জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।



বিষয়:



Top