পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীর পায়ে গুলি, প্রভাষকের ২১ বছর কারাদণ্ড
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে পরীক্ষা চলাকালে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাষক রায়হান শরীফকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ইকবাল হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রফিক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রায়হান শরীফ ওই মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমাল (২২) বগুড়ার ধুনট উপজেলার ধামাচাপা গ্রামের আব্দুল্লাহ আল আমিনের সন্তান।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে তার কাছে থাকা ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালকে গুলি করেন। গুলিটি তার ডান পায়ে লাগে এবং তিনি আহত হন।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন, বিদেশি ছোরা ও ধারালো ছুরি উদ্ধারসহ তাকে আটক করে।
পরে ঘটনার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।
এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক উপপরিদর্শক এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা পৃথক দুটি মামলা করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়হান শরীফকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ২১ বছরের কারাদণ্ড দেন। আসামির আটক অবস্থার সময়কাল রায়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
