ফতুল্লার গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচজনের বাউফলে দাফন
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
কোরবানির ঈদে বাড়ি ফিরে নতুন ঘরের কাজ শেষ করার স্বপ্ন ছিল কালাম মিয়ার। ইচ্ছা ছিল স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাকি জীবনটা গ্রামের বাড়িতেই কাটাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজজনিত বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একে একে প্রাণ হারান তিনি ও তার স্ত্রী-সন্তানরা।
সবশেষে শনিবার (১৬ মে) পটুয়াখালীর বাউফলে একসঙ্গে পাঁচজনকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। একই সারিতে শায়িত হলেন কালাম মিয়া (৫০), তার স্ত্রী সালমা বেগম (৪০), একমাত্র ছেলে মুন্না (১২) এবং দুই মেয়ে মুন্নী (৯) ও কথা (৭)।
এর আগে সোমবার (১১ মে) সকালে প্রথমে দাফন করা হয় পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কালাম মিয়াকে। পরে একে একে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার স্ত্রী ও তিন সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কালাম মিয়া দীর্ঘ ২০–২২ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা সাইনবোর্ড এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি ভুইগড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
গত রোববার (১০ মে) সকালে রান্নাঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে জমে থাকা লিকেজ গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে কালাম মিয়া, এরপর ধারাবাহিকভাবে তার তিন সন্তান এবং সর্বশেষ স্ত্রী সালমা বেগমের মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজের বিষয়টি আগেই ভবন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত বলে দাবি স্বজনদের।
নিহত কালাম মিয়ার বোন রাসেদা বেগম বলেন, ভাই কোরবানির ঈদে বাড়ি ফিরে ঘর শেষ করে পরিবার নিয়ে গ্রামে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই লাশ হয়ে ফিরলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
